শাশ্বতী নন্দীর জন্ম কলকাতায়, ৮ই আগস্ট, ১৯৬৬। বিজ্ঞানের স্নাতক, কিন্তু সাহিত্যই ছিল প্রিয় বিষয়। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ মানবাধিকার কমিশনে বিশেষ পদে কর্মরত। কিন্তু সাহিত্য প্রেম তাঁকে নিরন্তর ডুবিয়ে রাখে লেখালেখির মধ্যে।
২০১৭-তে শারদীয়া উনিশ-কুড়িতে প্রকাশিত তাঁর ‘দৈত্যের বাগান’ উপন্যাসটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লীলা পুরস্কারে ভূষিত। ২০১৪ য় সানন্দায় প্রকাশিত ‘বসন্ত অফুরান’ উপন্যাসটিও পাঠক আদৃত।
দেশ, আনন্দবাজার, সংবাদ প্রতিদিন, বর্তমান প্রভৃতি পত্রিকায় নিয়মিত ছোট গল্প প্রকাশিত হয়। ঘরোয়া পরিসর, ছোট্ট কোনও ঘটনাকেই অক্ষরের বুননে বাঁধতে পারেন তিনি।
প্রথম প্রকাশিত গল্প গ্রন্থ, ‘স্বপ্ন বলাকা’ প্রদ্যোৎকুমার স্মৃতি উৎকর্ষ পুরস্কার পায়।
ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে এসে দেখা হল রাই-শ্রাবন-ধানসিঁড়ি-পিহু-পদ্মনভর। ওরা সবাই মিলে তৈরি করল এক নতুন পৃথিবী। যেখানে আছে গান, হাসি, আর রাশি রাশি স্বপ্ন।
কিন্তু স্বপ্নগুলো হোঁচট খায় যখন ওরা ঘরের চৌকাঠে পা ফেলে। কারণ রাই, ধানসিঁড়ি, পদ্মনভ, শ্রাবণ,সকলেরই মনে,একটা বিষাদের চোরা কুঠুরি আছে।
তাই তো রাইয়ের বাবা, সন্দীপ চৌধুরী, ‘আনন্দ আনলিমিটেড’ নামে একটি সংস্থা থেকে একটি ছেলেকে বহাল করেছে মেয়ের দেখভালের জন্য
ওরা নাকি খুশির ফেরিওলা। মানুষের মনের অন্দর থেকে সব কষ্ট শুষে নিয়ে খুশি ভরে দেয়। কিন্তু রাইয়ের ভেতর যে পাহাড় প্রমাণ যন্ত্রণা, পারবে কি তারা সে সব ধুয়ে মুছে দিতে?
আর ওই যে শ্রাবণ, যে রোজ ক্লাসে এসে তার পাশের চেয়ারটাকে আগলে অপেক্ষা করে অদৃশ্য কিছু বান্ধবীর জন্য, সত্যিই কি কোনদিন কেউ আসবে শ্রাবণের পাশে বসতে?
এই উপন্যাসটি পড়তে পড়তে পাঠক গল্পের চরিত্রের মধ্যে হয়তো খুঁজে পাবেন, তাদের ফেলে আসা সময়, কলেজ বেলার উচ্ছ্বাস। কখনো তাঁরা হাসবেন, আবার কখনো নিজের অজান্তেই তাঁদের চোখের কোল ভিজে উঠবে কান্না জলে। এভাবেই আনন্দ ও ব্যথাকে পাশাপাশি নিয়ে চলতে চলতে এ কাহিনী এক বাঁক থেকে অন্য বাঁকে পৌঁছে দেবে পাঠককে যেখানে অপেক্ষা করছে নতুন নতুন ঘটনা, নতুন নতুন চমক তবে আসল চমক কাহিনীর শেষ বুননে, যেখানে বোঝা যায় সত্যিকারের ভালবাসার পরিণতি কী ? মিলন নাকি শুধুই অপেক্ষা, এক জীবন থেকে অন্য জীবন পর্যন্ত