জন্ম সত্তর দশকের প্রথম দিকে।বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর । পেশায় শিক্ষিকা।২০০৭ সালে বুকসেলারস এন্ড পাবলিশার্স গিল্ড প্রদত্ত শ্রেষ্ঠ কবি পুরস্কার পান দ্বিতীয় গ্রন্থ বন্ধুর কাব্যগ্রন্থের জন্য।গদ্য গ্রন্থ সহজ রামায়ণ বাংলাদেশ জনান্তিক থেকে প্রকাশিত ও প্রভূত সংবর্ধিত হয়, সরকারি তরফে ও পাঠক মহলে।
রত্নাকর চর্চা ও শিক্ষায় হলেন বাল্মিকী। তার লিখিত মহাকাব্য অমর করতে সেই গান পালা করে অযোধ্যার রাজসভায় গীত হলো লাগাতর দীর্ঘদিন। গাইলো তাঁর দুই শিষ্য – লব ও কুশ।সমস্ত দেশের মানুষ শুনলো সেই গান।
Book Description
রাজা রামের ও রানি সীতার কাহিনি।
বাবা কথা দিয়েছিলেন বিমাতা কৈকেয়ীকে, সেই কথা না রাখলে প্রজাদের সামনে রাজা ছোট হয়ে যাবে,তাই সম্মাণ বাঁচাতে তিনজন অর্থাৎ রাম লক্ষ্মণ ও সীতা চোদ্দ বছর বনবাসে কাটাতে গেলেন।তেরোতম বছর কাটলো সুপুরুষ ব্রাহ্মণ বীর বুদ্ধিমান রাবনের সঙ্গে যুদ্ধে।সেই যুদ্ধ কৌশলও এই গদ্যের অংশ।অবশেষে নানা উপায়ে ও নানা জাতিগোষ্ঠির সাহায্য প্রাপ্ত রাম জয়ী হয়ে দেশে ফেরেন কিন্তু সীতার কষ্ট দূর হয় না।তাকে অন্তসত্ত্বা অবস্থাতেই আবার বনবাসে পাঠানো হয়, সেখানে তার দুই ছেলে জন্মায় যারা বাল্মিকীর আশ্রমে সমস্ত বিদ্যায় পারদর্শী হয়ে ওঠে।
বিধিনিষেধের বেড়াজালে যে মহাকাব্য শুধুমাত্র সংস্কৃত ভাষাতেই লিখিত ও পঠিত হতে পারত,পঞ্চদশ শতকের গোড়ায় তা বাংলায় লিখলেন কবি কৃত্তিবাস ওঝা। সেই কাহিনি আজ আজকের ভাষায় গদ্যে নিবেদিত হলো গ্রন্থে।মহাকাব্যের গরিমা সামান্যতম ক্ষুন্ন না–করে, অতীতের আলো-আঁধারি পথে চলতে চলতে লেখক আমাদের সান্নিধ্য দিয়েছেন চির–পরিচিত চরিত্রদের—যাঁরা তাঁদের বীরত্ব ঔদার্য দয়া ঈর্ষা কামনা অনুশোচনা ও সন্দেহ নিয়ে আমাদের মতো নিছক মানুষই—অতীন্দ্রিয়ের স্পর্শহীন; আশ্চর্য কাছের চরিত্রদের নিয়ে যে-আখ্যান হয়ে উঠেছে অনবদ্য, এক ছাপোশা ঐশ্বর্য।
চিরপরিচিত এই কাহিনিই একটু অন্য চোখে দেখা যেখানে নর, বানর, দেব ও দানব মানুষেরই নানা জাতিভেদ, আসলে সবাই মানুষ।