আশিক সরকার
আশিক সরকারের জন্ম বাংলাদেশের নেত্রকোণা জেলার জয়নগরে। পিতা ভবতোষ সরকার এবং মাতা অঞ্জনা সরকার। নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার কিশলয় শিশু নিকেতন ও সি. কে. পি. সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং ময়মনসিংহের সানফ্লাওয়ার আইডিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও আলমগীর মনসুর মেমোরিয়াল কলেজ-এ প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ থেকে সংগীত বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও নজরুল-সংগীত বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন এবং কলা অনুষদে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক লাভ। তাঁর সংগীতগুরুদের মধ্যে শ্রীশ্যামসুন্দর চৌধুরী, শ্রীগোপাল দত্ত, শ্রীসুনীলকুমার ধর, শ্রীঅরিন্দম ভট্টাচার্য, শ্রীসুধীন দাশ, প্রফেসর ডক্টর রশিদুন্ নবী প্রমুখ অন্যতম।
২০১৫ সালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান এবং বর্তমানে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব নজরুল স্টাডিজ-এর অধীনে ‘নজরুল রচিত ভাঙা গান’ এবং গবেষণা ও সম্প্রসারণ কেন্দ্রের অধীনে ‘নজরুল সংগীতে তাল-বৈচিত্র্য’ শীর্ষক গবেষণাকর্ম সম্পন্ন। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জার্নালে সংগীত বিষয়ক বেশ কিছু গবেষণামূলক প্রবন্ধ প্রকাশিত। তাঁর তত্ত্বাবধানে স্নাতকোত্তর পর্যায়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ থিসিস সম্পন্ন।
২০০৮ সাল থেকে বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত নজরুল-সংগীত শিল্পী হিসেবে নিয়মিত সংগীত পরিবেশন করছেন। বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত কবি নজরুল ইনস্টিটিউট-এর শুদ্ধ বাণী ও সুরে আদি গ্রামোফোন রেকর্ডভিত্তিক নজরুল-সংগীতের স্বরলিপি প্রণয়ন কার্যক্রমে স্বরলিপিকার হিসেবে তিনি যুক্ত।
Book Description
নজরুল-সংগীত বিষয়ক সাতটি প্রবন্ধ নিয়ে এই গ্রন্থটি সংকলিত। উত্তর ভারতীয় সংগীতের আট প্রকার সারং অঙ্গের রাগ অবলম্বনে কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গানগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে প্রথম প্রবন্ধে। স্বরচিত গান এবং অন্য রচয়িতার গান — সব মিলিয়ে নজরুল প্রায় অর্ধশত গানের স্বরলিপি প্রণয়ন করেছেন। তাঁর স্বরলিপিকৃত গানগুলো এবং স্বরলেখনে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির যে প্রকাশ ঘটেছে তা অনুসন্ধান করা হয়েছে দ্বিতীয় প্রবন্ধে। পরবর্তী চারটি প্রবন্ধ অর্থাৎ তৃতীয় থেকে ষষ্ঠ প্রবন্ধের বিষয়বস্তু হলো নজরুল রচিত ভাঙা গান। এর মধ্যে তৃতীয় প্রবন্ধে ভজন, গজল ও কাওয়ালি অনুসরণে রচিত গান, চতুর্থ প্রবন্ধে হিন্দুস্থানি সংগীতের নানা ঘরানার ধ্রুপদ, খেয়াল ও ঠুমরি ভাঙা গান, পঞ্চম প্রবন্ধে নজরুলের সমকালীন গীতরচয়িতাদের গানের সুর অনুসরণে রচিত গান এবং ষষ্ঠ প্রবন্ধে রামপ্রসাদীসহ নানা ধারার লোকসংগীত অনুসৃত গান সম্পর্কে আলোচনা উপস্থাপিত হয়েছে। সপ্তম অর্থাৎ শেষ প্রবন্ধে পেশ করা হয়েছে নজরুল রচিত শাক্তসংগীত সম্পর্কে আলোচনা এবং নানা তথ্য উল্লেখপূর্বক একটি দীর্ঘ তালিকা।
